Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

নরেন্দ্র মোদির অপরাজিত ভাবমূর্তি ভেঙে চুরমার

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩০
নরেন্দ্র মোদির অপরাজিত ভাবমূর্তি ভেঙে চুরমার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় ঘোরানোর মতো ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের মুখে দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর এই তরুণ আন্দোলন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। কিন্তু আলজাজিরায় ভারতের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগের শিক্ষক অপূর্বানন্দ লিখেছেন, এই যুব বিদ্রোহের প্রকৃত লক্ষ্য কখনোই কেবল একজন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না। দিল্লির রাজপথে স্লোগান, প্লাকার্ড, ডিজিটাল আর্ট এবং ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কোটি কোটি তরুণের যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছিল, তার তির সরাসরি নিক্ষেপ করা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকেই। দীর্ঘ এক দশক ধরে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্র ও গণমাধ্যমের সহায়তায় নরেন্দ্র মোদির চারপাশে যে অলৌকিক ও অপরাজিত এক বলয় গড়ে তুলেছিল, যন্তর মন্তরে ভারতের তরুণ সমাজ তাদের উদ্ভাবনী প্রতিরোধ ও বিদ্রূপের মাধ্যমে সেই বলয়কে খণ্ড বিখণ্ড করে দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সাধারণত দেশের বুদ্ধিজীবী এবং প্রবীণ মহলে একটি গভীর ধারণাগত পক্ষপাত বা ভুল অনুমান কাজ করে যে, আজকের তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন, চরম ভোগবাদী এবং গণতন্ত্র কিংবা সংবিধানের নীতি ক্ষুণ্ন হওয়া নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু অপূর্বানন্দের মতে, যন্তর মন্তরের ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে এই তথাকথিত বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণার অসারতা পুরোপুরি ফুটে উঠেছে। ভারতের তরুণ সমাজ বর্তমান শাসনব্যবস্থার চরিত্র সম্পর্কে বিন্দুমাত্র মোহগ্রস্ত ছিল না; তারা অত্যন্ত স্পষ্টতার সাথে অনুধাবন করতে পেরেছিল যে, বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় কোনো একক মন্ত্রী বা আমলার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা বস্তুত একজন মাত্র ব্যক্তি, একজন মাত্র মুখ এবং কর্তৃত্বের একক কেন্দ্র– নরেন্দ্র মোদিতে এসে পর্যবসিত হয়েছে। ফলে একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক আবেদন ছিল না, বরং তা ছিল দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিটিকে নতজানু হতে বাধ্য করার একটি সুপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। সপ্তাহজুড়ে হাজার হাজার তরুণের দখলে থাকা যন্তর মন্তরে হেঁটে গেলে এই সত্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠত যে, তারা যা অর্জন করেছে তা আধুনিক যুগের এক অনন্য আইকন ভাঙার আন্দোলন। তারা সফলভাবে সেই কাল্পনিক জননেতার ভাবমূর্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, যা গত এক দশক ধরে জাতির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মাণ করা হয়েছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
যন্তর মন্তরের আন্দোলন কি মোদির জন্য ‘অশনিসংকেত’?modi-ai

এই যুব আন্দোলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর আমূল বিকেন্দ্রীভূত রূপ। অপূর্বানন্দ তুলে ধরেছেন যে, যন্তর মন্তরে পরিচালিত এই আন্দোলনে বিশাল বাজেটের পেশাদার ছাপানো ব্যানার কিংবা কোনো কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের দিকনির্দেশনা ছিল না। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করার মতো কোনো বাঁধাধরা স্লোগান বা পোশাকের একমুখিতা ছিল না। বাতিল করা কার্টনের টুকরো, পুরোনো কাগজ আর সস্তা মার্কার কলম দিয়েই তরুণরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রতিটি প্লাকার্ডে ফুটে উঠেছিল স্বতন্ত্র নৈতিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মনোভাবের স্পষ্ট ছাপ। কিন্তু নানা বৈচিত্র্য সত্ত্বেও আন্দোলনের প্রতিটি বার্তার মধ্যে এক অসাধারণ থিমেটিক ঐক্য বজায় ছিল, যার কেন্দ্রে ছিলেন কেবল নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর পদটিকে উপহাস করা হয়েছে, কার্টুন এঁকে বিদ্রূপ করা হয়েছে এবং ১০ বছর ধরে গড়ে তোলা তার দেবতুল্য ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে টেনে নিচে নামানো হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের এই তরুণ প্রজন্ম শাসনব্যবস্থার এক সুউচ্চ ও আতঙ্কজনক মূর্তিভিত্তিক কর্তৃত্বকে তাদের সম্মিলিত হাসির পাত্রে পরিণত করেছে। মূলত ক্ষমতার চরম ও লাগামহীন অহংকার এবং তা থেকে তৈরি হওয়া অপমানবোধ থেকেই তরুণেরা এত বড় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পেয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ফেসবুক
নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ফেসবুক

এই গণবিক্ষোভের নেপথ্যে কেবল অর্থনৈতিক বা বস্তুগত ক্ষোভ কাজ করেনি, বরং এর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর মানসিক অবমাননার ইতিহাস। আন্দোলনের তাৎক্ষণিক অনুঘটক বা প্রতীকী স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি অত্যন্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্য আদালতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সাথে তুলনা করেছিলেন। বহু বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ বিচারবিভাগ সংবিধানের স্বাধীন অভিভাবক হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে বিচারবিভাগীয় ক্ষমতাকে নির্বাহী বিভাগের সম্প্রসারণ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যটি তরুণদের কাছে শাসকগোষ্ঠীর নিজস্ব অবহেলা ও ঘৃণারই নগ্ন প্রতিফলন বলে মনে হয়েছিল। এই চরম আঘাত থেকেই তরুণেরা সৃষ্টি করে এক পাল্টা রসবোধ—তারা গঠন করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। ইতিমধ্যে উন্মোচিত হওয়া নিট পরীক্ষার দুর্নীতি আন্দোলনকে এক মূর্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করে। তবে পরীক্ষা বাতিলের দাবি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন খুব দ্রুতই পুরো শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিহীন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক সামগ্রিক গণদাবিতে রূপ নেয়।

অন্যদিকে, শাসকগোষ্ঠী নিজেদের তৈরি করা অহংকারের ফ্রেমে বন্দি ছিল। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে ভারতীয় সমাজকে তারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে চালচলন, রাজনৈতিক দল ভাঙিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কবজা করার কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা সমাজের তলদেশে জমে থাকা নিঃশব্দ ঝড়ের আভাস পেতে ব্যর্থ হয়েছিল। মূলধারার গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীরা যখন দেশের ‘বিশ্বগুরু’ হওয়া এবং প্রাচীন সভ্যতার গৌরবের বন্দনায় মত্ত ছিল, তখন কোনো টিভি স্টুডিও বা সংবাদপত্র তরুণদের অবরুদ্ধ ভবিষ্যৎ কিংবা চাকরি হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেনি। রাষ্ট্র ও তার অনুগত গণমাধ্যম তরুণদের এই মানবিক সংকটকে গণতান্ত্রিক আলোচনার যোগ্য মনে করেনি। প্রথাগত গণতান্ত্রিক স্থানগুলো থেকে বিতাড়িত হয়ে তরুণেরা তাদের নিজস্ব বিকল্প ক্ষেত্র গড়ে তোলে। স্মার্টফোন হয়ে ওঠে তাদের উন্মুক্ত জনপরিসর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো রূপান্তরিত হয় রাজনৈতিক সমাবেশে এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা স্যাটায়ার হয়ে ওঠে তাদের প্রাথমিক রাজনৈতিক ভাষা। শাসকদলের ভাবাদর্শ ধরে নিয়েছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সংখ্যালঘু বিদ্বেষের রাজনীতিতে বুঁদ করে রাখতে পারলে মানুষের বাস্তব অভাব-অনিয়ম আর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু ভারতের তরুণেরা এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

প্রোপাগান্ডা দিয়ে কি ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন মোদি?modi-ai

এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতার প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক যখন যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন, তখন সরকার প্রথমদিকে তার সাধারণ হাতিয়ার হিসেবে ‘পরিকল্পিত নীরবতা’ অবলম্বন করে। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার পরও তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার নীতি জনমনে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে যখন রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে তাকে অনশনস্থল থেকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়, তখন সেটিই সরকারের জন্য একটি বড় ভুল পদক্ষেপে পরিণত হয়। তরুণেরা ওয়াংচুকের এই অপমানকে তাদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বুঝতে পারে যে, আজ ওয়াংচুকের সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, কাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যেকোনো সাধারণ নাগরিকের সাথেও একই আচরণ করা হবে। এর জবাবে হাজার হাজার তরুণ সশরীরে যন্তর মন্তর দখল করে নেয়। এরপর যখন ২০ জুলাই তরুণরা সংসদের দিকে পদযাত্রা শুরু করে, তখন রাষ্ট্র তার চেনা কৌশল প্রয়োগ করে– ব্যারিকেড, ১৪৪ ধারা এবং তীব্র দমনপীড়ন। সিএএ-বিরোধী আন্দোলন কিংবা কৃষক আন্দোলনের সময় যেভাবে ভয় দেখিয়ে মানুষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছিল, এবার তরুণেরা সেই লাঠি ও টিয়ার গ্যাসের মুখে পিছপা হয়নি। পুলিশের মারধর তাদের ভয় না দেখিয়ে বরং তাদের নৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।

অপূর্বানন্দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশের নির্মম প্রহারকে তরুণরা কোনো সাধারণ অন্যায় হিসেবে দেখেনি, বরং তারা সেটিকে নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব রাজনৈতিক ইচ্ছার সরাসরি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে ভয়ের যে মনস্তাত্ত্বিক বলয় রাষ্ট্র তৈরি করেছিল, তা কাজ করতে ব্যর্থ হয়। আহত তরুণেরা নিজেদের ক্ষতচিহ্নকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ধারণ করে খালি পায়ে আবার যন্তর মন্তরে ফিরে আসে এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য দাঁড়ায়– প্রধানমন্ত্রীকে নিজের কোনো অনুগত মন্ত্রীকে ত্যাগ করতে বাধ্য করা। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিপুল উত্তেজনার মধ্যেও তরুণেরা সহিংসতার ফাঁদে পা দেয়নি। তাদের অস্ত্র ছিল ভাষা, ডিজিটাল আর্ট এবং প্রখর রসবোধ। যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে তরুণদের উদ্দেশ্যে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন, তখন শিক্ষার্থীরা মুহূর্তের মধ্যে তার জবাব দেয় এই বলে– ‘আমরা আপনার বন্ধু নই।’ এটি কেবল একটি চটকদার স্লোগান ছিল না, বরং এতদিন ধরে মোদি যে পিতৃতান্ত্রিক ও অভিভাবকতুল্য সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তা এক নিমিষে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। স্বৈরাচারী ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি হলো মানুষের মনে ভীতি ও দেবতুল্য ভক্তিবোধ তৈরি করা। যন্তর মন্তরের তরুণেরা প্রধানমন্ত্রীকে সেই অপার্থিব উচ্চতা থেকে টেনে নামিয়ে এনে একজন সাধারণ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচিত প্রতিনিধির জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়। বরং এটি মোদির অপরাজিত ভাবমূর্তিকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা একটি মরিয়া প্রতিরক্ষা ব্যুহ। সরকার হয়তো এটিকে তাদের গণতান্ত্রিক সংবেদনশীলতা বলে প্রচার করার চেষ্টা করবে। কিন্তু তরুণ আন্দোলনকারীরা ভালো করেই জানে যে এই পদত্যাগ হলো বাধ্য হয়ে দেওয়া একটি রাজনৈতিক পরাজয়। এর আগে সরকার এই আন্দোলনকে দমন করতে সবরকম চেষ্টা করেছে– কখনো উপেক্ষা করেছে, কখনো বিরোধীদের ইন্ধন বলে চালিয়ে দিয়েছে, আবার কখনো বিদেশি চক্রান্তের গল্প ফাঁদার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এসব অপপ্রচার যখন ব্যর্থ হয়েছে এবং লাঠিচার্জ করেও তরুণদের দমানো যায়নি, তখনই বাধ্য হয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

অপূর্বানন্দ তার বিশ্লেষণের উপসংহারে লিখেছেন যে, যন্তর মন্তরের আন্দোলনের শারীরিক উপস্থিতি হয়তো শেষ হয়েছে, ব্যারিকেডগুলো সরে গেছে এবং তরুণেরা তাদের হোস্টেল ও ঘরে ফিরে গেছে, কিন্তু এই আন্দোলনের ফলে প্রাপ্ত চেতনা কখনো হারিয়ে যাবে না। মেসেঞ্জারে, লাইব্রেরিতে, বাসের সিটে কিংবা অসংখ্য জ্বলন্ত মোবাইল স্ক্রিনে এই গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ চর্চিত হতে থাকবে। স্বৈরাচার টিকে থাকে মানুষের অন্ধ আনুগত্য ও নীরবতার ওপর। যন্তর মন্তরে ভারতের তরুণ সমাজ সেই ভয়ের বাঁধ ভেঙে দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, কোনো নাগরিক যখন নিজের কণ্ঠস্বরের শক্তিতে পুনরায় বিশ্বাস ফিরে পায়, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই একটি প্রকৃত গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে।

বিষয়: দিল্লিনরেন্দ্র মোদিভারত
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড