Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতিতে বিপাকে ত্রিপুরা

তরুণ চক্রবর্তী

তরুণ চক্রবর্তী

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৫৩
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতিতে বিপাকে ত্রিপুরা

মানচিত্রে বাংলাদেশ যেমন ভারতের পেটের ভিতরে ঢুকে রয়েছে, তেমনি ত্রিপুরা রাজ্যটাও বাংলাদেশের পেটের ভেতর। মোট ১ হাজার ১৮ কিলোমিটারের সীমান্তের মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটারই বাংলাদেশের সঙ্গে। ৪০ লাখ জনবসতির এই ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্যটির বাঙালি বাসিন্দাদের প্রায় শতভাগেরই পূর্বপুরুষ সাবেক পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ত্রিপুরার মহারাজার কুমিল্লায় জমিদারি ছিল। কুমিল্লা শহরে যে হাঁস-মুরগির খামারটি রয়েছে, সেটি ছিল সংগীত শিল্পী শচীন দেববর্মণদের। শচীন কর্তারা ছিলেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য। কুমিল্লার বাড়িটিতে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সঙ্গে শচীন কর্তার সংগীত সাধনার স্মৃতি রয়েছে।

আসলে ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক যোগাযোগ ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে সবার আগে পাশে দাঁড়িয়েছিল ত্রিপুরা। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশ পাওয়ার আগেই ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন শরণার্থীদের জন্য। ত্রিপুরার মানুষ নিজেদের জনবলের থেকেও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। আসলে ত্রিপুরার মানুষের মনে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে ঐতিহাসিক ভালবাসা। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে এই ছোট্ট রাজ্যটির। অথচ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের হাত ধরে সবচেয়ে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ত্রিপুরার। বহু বাংলাদেশি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ট্রেনে বা বিমানে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় কম খরচে যাতায়াত করতে পারতেন। বাংলাদেশের আটটি জেলার সদর থেকে ঢাকা নয়, আগরতলা কাছে। সেই সুবিধাটা তারা নিতেনও। কিন্তু এখন ভিসা জটিলতায় সবই অতীত।

ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েনে গঙ্গা চুক্তি কোন পথে?river padma

ভারতে একমাত্র রাজধানী আগরতলাতেই আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর রয়েছে। বিমানবন্দরও জিরো পয়েন্ট থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। বিমান উড়লেই বাংলাদেশ। আগরতলা থেকে ভারতের আসাম ও বিহার হয়ে ট্রেনে বা সড়ক পথে কলকাতা যেতে লাগে প্রায় দুই দিন। দূরত্ব পাহাড়ি পথে ১ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার। আকাশ পথে মাত্র ৩২৭ কিলোমিটার। ঢাকা হয়ে গেলে ৫০০ কিলোমিটার। ত্রিপুরাসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের আট রাজ্যেরই কোনো সমুদ্র বন্দর নেই। তাই চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে আগ্রহী ছিল ভারত। চুক্তিও হয়। অবকাঠামো তৈরি ও উদ্বোধন হলেও আজ সবই ধামাচাপা পড়ে আছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা নিতে ভারত সরকার ত্রিপুরার সাব্রুম ও বাংলাদেশের রামগড়ের মধ্যে ফেনী নদীর ওপর গড়ে তোলে মৈত্রী সেতু। ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সেতুটির দক্ষিণে চট্টগ্রামের রামগড় আর উত্তরে ত্রিপুরার সাব্রুম। সেতু থেকে চট্টগ্রাম বন্দর মাত্র ৮০ কিলোমিটার। বহু সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখিয়ে ২০২১ সালের ৯ মার্চ মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, এটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার। স্বপ্ন অনেক ফেরি হলেও ১৩৩ কোটি রুপির এই সেতু এখনো ত্রিপুরার কোনো কাজে লাগেনি। তেমনি ত্রিপুরার শান্তিরবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাংলাদেশের ফেনী জংশন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রেল সংযোগ পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর এবং কক্সবাজার গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত একটি রেল সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও আপাতত বিশবাঁও জলে।

ঠিক তেমনি, ২০২৩ সালে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা আখাউড়া-আগরতলা রেলসংযোগও কবে অপারেশনাল হবে তার উত্তর কারও জানা নেই। যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে ভারতে ৫ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার, মোট ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রেলপথ ভারতীয় অর্থায়নে নির্মাণ হয়। উদ্দেশ্য ছিল অনেক। ভারতের নিশ্চিন্তপুর ও বাংলাদেশের গঙ্গাসাগরে পরিকাঠামো কিন্তু তৈরি। লাভ কিছু হচ্ছে না। বরং জল বা পানি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে রেল লাইনে ঘাস জন্মাতে বেশি দিন লাগবে না।

ঢাকায় হ্যান্ডশেক: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কি স্বাভাবিক হবে?india pakistan new

ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যাই হোক না কেন, ত্রিপুরার মানুষ কিন্তু বাংলাদেশিদের মন থেকে ভালোবাসেন। বাংলাদেশের মানুষও ত্রিপুরার অবদান ভোলেননি। সেটা দ্বিপাক্ষিক প্রথাগত বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসত। এখন সেটাও বন্ধের মুখে। ত্রিপুরা দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলেই ছিল। সীমান্ত হাটে গেলে দেখা যেত মানুষের উচ্ছ্বাস। উভয় পারের মানুষ উপভোগ করতেন বিনা পাসপোর্ট-ভিসার মেলামেশার সুবিধা। সব থমকে রয়েছে আজ। খুব কম মানুষ যাতায়াত করছেন। দুই পারেই ভিসার জন্য হাহাকার। কিন্তু সীমান্তে কড়া নজরদারি।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে আগরতলা শহরটাও যেন কেমন বদলে গিয়েছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের ভিড় নেই বললেই চলে। বাজারে বাজারে ইলিশ বলতে কলকাতার। মাছ আসছে, কিন্তু কম। আগরতলা আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের কর্মকর্তা দেবাশিস নন্দী জানালেন, যাত্রী খুব কম হচ্ছে। পণ্য পরিবহণেও নিষেধাজ্ঞার ছোঁয়া লেগেছে। আগরতলা-ঢাকা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস তো বহুকাল বন্ধ। বর্ডার হাট দুটিও বন্ধ রয়েছে। তবে সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের কুচকাওয়াজ সপ্তাহে দুদিন হচ্ছে। ভিড় করছেন দুপারের মানুষ। প্রতি শনি ও রোববার বিকেলে সূর্যাস্তের সময় আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তে জাতীয় পতাকা অবনমনের সময় সামরিক অভিবাদন দেখতে ভিড় করা মানুষদের আবেগে কোনো খামতি নেই। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ এবং বর্ডার সিকিওরিটি ফোর্সের অভিবাদন দেখতে হাজির হওয়া অনেকেই চোখের জলে প্রার্থনা করেন দুই দেশের সুসম্পর্কের। দুই পারের সাধারণ মানুষ কিন্তু চান ফের বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তা ফিরে আসুক। কিন্তু আখাউড়া থেকে ঢাকা, আগরতলা থেকে দিল্লির দূরত্বটা বোধহয় কম নয়!

দ্বিপাক্ষিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ কমলেও বিদ্যুৎ কিন্তু ত্রিপুরা থেকে নিয়মিত যাচ্ছে বাংলাদেশে। ত্রিপুরা সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের জনসংযোগ আধিকারিক বিপুল ভৌমিক জানান, ভারত সরকারের নির্দেশেই এখনো বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হচ্ছে। বকেয়া নিয়েও কোনো ঝামেলা নেই। ২০২৪ সালে প্রচুর বকেয়া জমলেও এখন বাংলাদেশ অগ্রিম অর্থ দিয়েই বিদ্যুৎ কেনে। ২০১৬ সাল থেকেই ভারত ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করছে।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলকাতা (ভারত)।

বিষয়: পাকিস্তানবাংলাদেশমানচিত্রত্রিপুরাভারত
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড